Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | mail.bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের জন্য অবাঙালি এক নেতার আত্মত্যাগ

ওয়ালিউর রহমান বাবু ২৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে, বাঙালিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন কিছু অবাঙালি যদিও তাদের সংখ্যা ছিল একেবারে হাতে গোনা। এদের একজন হাফেজ আব্দুস সাত্তার। ইচ্ছা করলে তিনি পাকিস্তানি সৈনাদের পক্ষ হয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে বাঙালিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন। ১৯৭১ সনের ২৭ মার্চ দুপুরে নামাযের সময় রাজশাহী জেলা সদরে গণক পাড়ার বাড়ি থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়।

হাফেজ আব্দুস সাত্তার ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজীপুর সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি ছিলেন সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের গাজীপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বৃটিশ বিরোধী আন্দালনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ায় তৎকালীন সোফেদা সংস্থার নজরদারিতে পড়ে যান। এ কারণে চলে আসেন সীমান্তের এপারে পূর্ব বাংলার রাজশাহী শহরের গণকপাড়ায় বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবা হাজী নূর মোহাম্মাদের কাছে। অল্প সময়ে তিনি তার চারিত্রিক গুণাবলীর মাধ্যমে এ এলাকায় রাজনৈতিক নেতা কর্মী এবং সকলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পবিত্র কোরানের হাফেজ আব্দুস সাত্তার ভালো মানুষ হিসাবে সর্ব মহলে পেয়ে যান পরিচিতি। সম্পৃক্ত হয়ে যান ব্যবসার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোষহীন নেতা। ৬০ ও ৭০'র দশকে চলতে মাকা পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের ষড়যন্ত্র মেনে নিতে পারেন নি। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে দেশের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে থাকলে তিনি অবাঙালি হয়েও অবস্থান নেন বাঙালিদের পক্ষে। ভূমিকা রাখেন অসোহযোগ আন্দোলনে। এ কারণে বাঙালিবিদ্বেষী কাছে হয়ে যান শত্রু। ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে রাজশাহী ভুবন মোহন পার্কে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলতে নিষিদ্ধ পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টি (এম এল) নেতা  শহীদ ফেরদোস দৌলা খাঁন বাবলু ও অন্যান্য দের সহযোগিতা করেন। ২৫ মার্চ বিকেলে ভুবন মোহন পার্কে ক্রীড়া সংগঠকদের সভা ও সন্ধ্যায় শিল্পীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য স্বাধীনতা কামীদের অনূপ্রাণিত করেন।২৫ মার্চ মধ্য রাতে ও তার পরে পাকিস্তানি সৈন্যদের হত্যাকাণ্ড এবং রাজশাহী পুলিশ লাইন, ইস্ট পাকিস্তানি রাইফেলস (ই.পি.আর.) আনসার ক্যাম্প এর পতন হলে সকলের মধ্যে এক্য বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২৭ মার্চ দুপুরে যহুরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা তার গণকপাড়ার (আই এফ আই সি ব্যাংক) বাড়িটি ঘিয়ে ফেলে ফেলে, জোর করে তার বাড়ির ভিতরে ঢুকতে গেলে তার বড় ছেলে ইমিতিয়াজ তাদের বাধা দিলে বিবাদ সৃষ্টি হয়।পাকিস্তানি সেনারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকলে শহীদ হাফেজ আব্দুস সাত্তার সেখানে এলে পাকিস্তানি সৈনারা তাকে অফিসারের সঙ্গে কথা বলার অজুহাতে গাড়িতে তুলে নেয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা তার বড় ছেলে ইমতিয়াজকেও গাড়িতে তুলতে গেলে গাড়িতে থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক অফিসার তাকে সেখানে থেকে সরিয়ে দেয়। বড় ছেলে ইমতিয়াজ ও ছোট ছেলে মুন্না সহ পরিবারের সকলে রক্ষা পেলেও শহিদ হাফেজ আব্দুস সাত্তার আর ফিরে এলেন না। পারিবারিকাভাবে অনেক চেষ্টা করেও তার কোন খোজ পাওয়া গেল না। অবাঙালি হয়েও স্বাধীনতার জন্য শহীদ হলেন অবাঙালি নেতা হাফেজ আব্দুস সাত্তার। পরিবারটি হয়ে পড়ে অসহায়। অবাঙালিরা তাদের বাঙালিদের পক্ষ অভিযোগ দিয়ে হত্যা করার জন্য খুজতে থাকে। তিনি ফিরে না এলে পরিবারটি এখানে সেখানে আশ্রয় নেয়।  স্বাধীনতার প্রত্যাশায় অন্য শহিদ পরিবারদের মত এই পরিবারটিও আপেক্ষা করতে থাকে। দেশ স্বাধীনের পর কতিপয় তথাকথিত স্বার্থেন্বেষী মহল মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা এই পরিবরটিকে অবাঙালি আখ্যাদিয়ে নানা হয়রানি ও বিপদে ফেলে। সরকারের উচ্চমহল বিষয় টি যেনে জেলা প্রসাশকের মাধ্যমে তাদের রক্ষা করেন।পরিবারটি নিজেদের চেষ্টায় উঠে দাঁড়ান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই অবাঙালি নেতা শহিদ হাফেজ আব্দুস সাত্তরের অবদানকে এত বছরে কেউ মূল্যায়ন করে নি যা খুবই দুঃখ জনক।

তথ্য সুত্রঃ শহিদ হাফেজ আব্দুস সাত্তারের পরিবার।

লেখকঃ তথ্য সংগ্রাহক রাজশাহী।

ছবি