পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের প্রতিযোগীতা!! খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি

Major threat to food production and the environment
অনলাইন ডেস্ক ১৫ জুন ২০২৬ ০৭:১৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১৫ জুন ২০২৬ ০৭:১৪ অপরাহ্ন
পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের প্রতিযোগীতা!! খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি
খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি

আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমিতে আবারও পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। 

মাছ চাষে অধিক লাভের আশায় কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরির প্রবণতা বাড়তে থাকায় প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাতেই পুকুর খনন চললেও জিউপাড়া, ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকার অধিকাংশ বিলেই বর্তমানে পুকুর খননের কাজ চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধভাবে পুকুর খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় এক দশক আগে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কিছু নিচু ও এক ফসলি জমিতে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন শুরু হলেও বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে তিন ফসলি উর্বর জমিতেও। এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে পুকুর তৈরি করায় কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে কৃষিজমি হ্রাস পেতে থাকলে ভবিষ্যতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। কৃষিপ্রধান পুঠিয়ায় ধান, পাট, আখ, আলু, বেগুন, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব ফসল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুকুর খননের ফলে শুধু কৃষিজমিই নষ্ট হচ্ছে না, মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের কারণে সড়ক ও মহাসড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরা ট্রাক্টর চালালেও তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি জিউপাড়া এলাকায় আমবাগান কেটেও পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এসব পুকুরের মাটি স্থানীয় ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার অনেকেই ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে সেই মাটি কিনছেন।

তিনি আরও বলেন, পুকুর খননের কারণে উপজেলার কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের জমি পুকুর খননের জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজর এড়াতে বর্তমানে দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে অধিকাংশ পুকুর খননের কাজ করা হচ্ছে। ফলে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী বলেন, “কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। তবে ঠিক কতটুকু জমি কমেছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।”

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, “পুকুর খননের খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। পুকুর খননে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি এক্সকাভেটরও জব্দ ও অকেজো করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পুকুর খননে উৎসাহিত করছে। বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।”

তবে স্থানীয় কৃষক, পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পুঠিয়ার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।