মহাবিশ্ব দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে: নতুন গবেষণা

The universe is expanding at a rapid pace: New research
অনলাইন ডেস্ক ১৭ জুন ২০২৬ ০৪:০৯ অপরাহ্ন বিশ্ব/আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক ১৭ জুন ২০২৬ ০৪:০৯ অপরাহ্ন
মহাবিশ্ব দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে: নতুন গবেষণা
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এখনও দ্রুততর হচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় নিশ্চিত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।--সংগৃহীত ছবি

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এখনও দ্রুততর হচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় নিশ্চিত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটি ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত সেই ধারণাকেই সমর্থন করেছে, যার ভিত্তিতে রহস্যময় মহাজাগতিক শক্তি ‘ডার্ক এনার্জি’ বা অদৃশ্য শক্তির অস্তিত্বের ধারণা সামনে আসে।

এই গবেষণার ফলাফল গত বছর প্রকাশিত একটি বিতর্কিত গবেষণার বিরোধিতা করেছে। ওই গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আর ত্বরান্বিত হচ্ছে না। এতে মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে নতুন গবেষণার অন্যতম নেতা, যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ ব্রোডি পোপোভিচ বলেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এখনও ত্বরান্বিত হচ্ছে। আমরা এখনও অনেক কিছু জানি না, তবে আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি বলে মনে করি।

এ মাসে মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে দুইজন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীও অংশ নিয়েছেন।

গবেষণায় ‘টাইপ-১এ সুপারনোভা’ নামে পরিচিত এক ধরনের নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই বিস্ফোরণে ‘হোয়াইট ডোয়ার্ফ’ বা সাদা বামন নক্ষত্র ধ্বংস হয়ে যায়। একই ধরনের এসব বিস্ফোরণের উজ্জ্বলতা প্রায় সমান হওয়ায় মহাজাগতিক দূরত্ব পরিমাপে এগুলোকে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পৃথিবী থেকে দেখা উজ্জ্বলতার তারতম্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সুপারনোভার দূরত্ব এবং সেই সঙ্গে মহাবিশ্ব কত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে তা নির্ণয় করেন। যেহেতু আলোর মহাশূন্য পাড়ি দিতে সময় লাগে, তাই দূরবর্তী বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করা মানে অতীতের দিকে তাকানো।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সূচনা হয় এবং তখন থেকেই এটি সম্প্রসারিত হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম জানান, এই সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে। এর পেছনে ডার্ক এনার্জিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ গঠিত হয়েছে দৃশ্যমান বা সাধারণ পদার্থ দিয়ে। প্রায় ২৭ শতাংশ হলো ডার্ক ম্যাটার এবং বাকি ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি।

গত বছরের গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, ডার্ক এনার্জির শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আর ত্বরান্বিত হচ্ছে না। তবে নতুন গবেষণার ফলাফল সেই দাবিকে সমর্থন করেনি।

গবেষণার সহলেখক ও ২০১১ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অ্যাডাম রিস বলেন, টাইপ-১এ সুপারনোভা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ইতিহাস পরিমাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ১৯৯৮ সালে এই সুপারনোভাই প্রথম প্রমাণ দিয়েছিল যে ডার্ক এনার্জির কারণে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হচ্ছে।

নতুন গবেষণাটি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ডার্ক এনার্জির ভূমিকা সম্পর্কে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সূত্র: রয়টার্স