রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৬৫ লাখ টাকার দরপত্র জালিয়াতি॥ তদন্তে গড়িমসি - ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

Tender fraud worth Tk 6.5 million in Eastern Railway
নিজস্ব প্রতিবেদক :- ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক :- ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৬৫ লাখ টাকার দরপত্র জালিয়াতি॥ তদন্তে গড়িমসি - ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কোচের বেড-বেডিং ধোলাই কাজের দরপত্রে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কোচের বেড-বেডিং ধোলাই কাজের দরপত্রে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

 ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের এই কাজের জালিয়াতি তদন্তে সাত কর্মদিবস পার হতে চললেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (সিসিএম) দপ্তর। এদিকে একটি প্রভাবশালী চক্র পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


​রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের পর বৃহস্পতিবার সাত কর্মদিবস পূর্ণ হয়। তবে এই তদন্ত শেষ করতে কত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলাম বলেন, "তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।" তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল, তা ঠিক এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।


বিভাগীয় বাণিজ্যিক দপ্তর থেকে প্রথম শ্রেণির বেডিং ধোলাই ও ইস্ত্রির দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। শর্ত পূরণ না করায় তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। বাকি দুটির মধ্যে ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ ৬২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও মদিনা শালকরকে বাদ দিয়ে তিন লাখ টাকা বেশি খরচে কাজ দেওয়া হয় এ আর কনস্ট্রাকশনকে।


​অনুসন্ধানে জানা যায়, এ আর কনস্ট্রাকশনের দেওয়া ঠিকানা (পশ্চিম মাদারবাড়ি, যুগিচাঁদ মসজিদ লেন) সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেছে ‘ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টার’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ঠিকানা ও জাল চুক্তিনামা তৈরি করে দরপত্র বাগিয়ে নেয় চক্রটি। পাবনার নিবন্ধিত এ আর কনস্ট্রাকশন ফাতেমা বেগম নামে এক নারীর হলেও চট্টগ্রামে এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন শহীদ ওরফে ‘কানা শহীদ’।


​স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চট্টগ্রাম স্টেশন কলোনির মিঠুন নামে এক ব্যক্তি ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টারের ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। বাস্তবে কাজ করানো হচ্ছে আইস ফ্যাক্টরি রোডে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ‘ভাই ভাই শালকর’ নামের একটি কারখানায়।


দরপত্র জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রাথমিক যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা জেটিআই এনামুল হক শিকদারকে লাকসামে বদলি করা হয়েছে। তবে রহস্যজনকভাবে তাঁকে বদলিকৃত পদের পাশাপাশি ‘পোর্ট-চট্টগ্রাম’-এর অতিরিক্ত দায়িত্বেও বহাল রাখা হয়েছে।


​উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘ভাই ভাই লন্ড্রি’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছিল রেলওয়ে, কারণ তারা নিজস্ব কারখানার বদলে রেলের জায়গা দখল করে ধোলাই কাজ করছিল। সেই একই চক্র আবারও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এই বড় অঙ্কের কাজ বাগিয়ে নেওয়ায় রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ তদারকি ও সচ্ছতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।