Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news
২৩ নভেম্বর ২০২৫
০৪:০৯ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে আঃলীগের 'ভোটব্যাংক' দখলে জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির তৎপরতা

আবুল কালাম আজাদ Jamaat, NCP and BNP's efforts to capture Awami League's 'vote bank'

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের 'ভোটব্যাংক' একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন মাঠ পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই। দল হিসাবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকার সম্ভাবনায় নৌকার সমর্থক ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দলের মাঠপর্যায়ে জোর তৎপরতাও দৃশ্যমান হচ্ছে।এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে নৌকা সমর্থকদের নিরাপত্তার আশ্বাস, মামলা, হামলা বা হয়রানি থেকে রক্ষারও নানারকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। দলটির ভোটারদের সমর্থন আদায়ে নানা কৌশল ও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠ পর্যায়ের প্রার্থীদের।এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেনআলোচনায় এসেছে।

★রাজশাহীতে জামাতের ভোটের হিসেব নিকেশ:-

জনসমর্থন এবং ভোটারের দিক থেকে রাজশাহী আওয়ামী লীগের একটা শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, এখানে ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়। নৌকার বিপরীতের প্রার্থীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।এই ৬টি আসনে এবার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তারা প্রতিপক্ষ বিএনপির শক্ত ঘাঁটির রাজশাহীর ছয়টি আসনের জামায়াতের প্রর্থী ঘেষনা করেছেন।প্রার্থীরা হলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী ২ (সদর) জাহাঙ্গীর , রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা জামায়াতের শুরা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতের রোকন আবদুল বারী সরদার, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মু. নুরুজ্জামান লিটন এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাজমুল হক।


★রাজশাহী-২:-

রাজশাহী-২( সদর) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর বিপরীতে  জামায়াতে ইসলামীর  প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জাহাঙ্গীর আলম।

এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে না ধরে নিয়েই এই আসনের নৌকার সমর্থকদের ভোট নিজের পক্ষে নিতে কাজ করছেন জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী।

তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে পারিবারিক, সামাজিক সম্পর্ককে তিনি কাজে লাগাতে চাইছেন।এটা আওয়ামী লীগের জায়গা, যদি আওয়ামী লীগ আবার নির্বাচনের সুযোগ পায় তাহলে আপনারা আবারো আওয়ামী লীগে ভোট দিতে পারেন, কিন্তু তারা না আসলে আমাদেরকে দেবেন।

অন্যদিকে, আওয়ামীলীগের ভোটারদের আকৃস্ট করতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে এবং অজ্ঞাত মামলার নিরীহ কেউ আসামী হলে তাদের ছাড়াতে সহায়তা করছেন জামায়াত নেতারা। ইতিমধ্যে মামলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নাম প্রত্যাহারের বিষয়ে তৎপরতার বিষয়ে জানা যাচ্ছে।

জামাত নেতারা বলছে রাজশাহীতে বিশেষ করে সদর আসনে ৫ই আগস্টের পর এবং এনসিপির ও বিএনপিনর দেয়া  নামে-বেনামে মামলায় যাদের আসামী করা রয়েছে,তাদের  হয়রানি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। পক্ষান্তরে কেউ কেউ হয়রানি করার জন্য মিথ্যাভাবে তাদেরকে নাম দেয়, টাকা পয়সা নেয় আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাতে সাধারণ ভোটাররা আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।

★বিএনপি:-


রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের দিকে তীক্ষ নজর আছে বিএনপির  প্রার্থীদেরও। এবার রাজশাহীর ৬টি আসনই ধানের শীষের প্রার্থীরা জয়ী হবেন- এমন আত্মবিশ্বাস তাদের আছে।

বিএনপির চুড়ান্ত মনোনয়নে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলছেন, মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ধানের শীষকে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।"এবার আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নির্বাচনে থাকবে না। নির্বাচনে না থাকার কারণে এবার সাধারণ মানুষ একাত্তর সালের পক্ষের শক্তি ধানের শীষকে ভোট দেবে।

এছাড়া দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা তুলে ধরে মিনু বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিশোধের রাজনীতি করবে না বিএনপি, এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন ভোটারদের।তার ভাষায়, " যদি  এই আসনের মানুষ আমাদের ভোট দেয়, আমরা কোনো প্রতিশোধ, কোনো মিথ্যা মামলা, হয়রানি করবো না। কারণ আমাদের নেতা তারেক রহমান বলে দিয়েছেন যে ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।"

সম্প্রতি জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীরের বক্তব্যে বিএনপির দিকে, ইঙ্গিত থাকার বিষয়টি নিয়ে মিনু জামায়াতের ভন্ডামী রাজনীতির সমালোচনা করেন।তিনি বলেন,জামায়াত একটা গুপ্ত সংগঠন। জামায়াত তো প্রকাশ্য সংগঠন না। তারা এইসব আকাম করতেছে। ওরা সব সময় অন্য একটা দলের ঘাড়ে দায় চাপায়। এই সবের (মিথ্যা মামলা, হয়রানি) সাথে আমাদের বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এইগুলো এনসিপি জামাত তাদের সাথে ঘটনা ঘটছে, তারাই এগুলো করছে।"

মিনু বলেন,এবার রাজশাহীর ৬টি আসনেই তারা জয় ছিনিয়ে আনবেন।দল এবার তৃনমূলদের মতামত নিয়ে যোগ্য ও নিজ এলাকায় জন সমর্থন আছে এমনদের প্রার্থীতা দিয়েছেন।

রাজশাহীর আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থীরা হলেন, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর): মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন রাজশাহী-২ (সদর): মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর): অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন রাজশাহী-৪ (বাগমারা): ডিএম জিয়াউর রহমান রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর): অধ্যাপক নজরুল ইসলাম রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট): আবু সাঈদ চাঁদ।

★এনসিপি:-


রাজশাহীর আসন গুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর তৎপরতা দেখা গেলেও এনসিপির কোনো প্রার্থী এখনো সেভাবে তৎপর নেই। তবে, রাজশাহী-১( তানোর- গোদাগাড়ী) আতিকুর রহমান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে এনসিপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলী।রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা)ইমরান ইমনের কিছু ব্যানার ও ফেস্টুন লক্ষ করা গেছে।তবে তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ার মত নয়।

তবে তারা বলছেন,গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে নৌকার সমর্থক এবং ভোটব্যাংক নিয়ে আলাদা মূল্যায়ন রয়েছে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া দলটির।

এনসিপির রাজশাহীর সিনিয়র নেতারা বলছেন,নৌকার 'ভোটব্যাংক' এখন সেভাবে এখন নেই।বর্তমানে এটি কমবেশি দশ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।আওয়ামী লীগকে নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতারা ইতোমধ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, তবে এনসিপির নেতাদের সেরকম কোনো বক্তব্য নেই।আওয়ামী ভোটব্যাংক এককভাবে কোনো একটা দল বা কোনো একটা কৌশলগত জায়গা থেকে যাবে, সেটা আমরা এখন আর মনে করি না। এটা প্রার্থী স্থান এবং ওই এলাকায় বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির যে প্রার্থীরা থাকবেন তাদের ওপর ডিপেন্ড করবে।"

গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ করে ছাত্র তরুণদের মধ্যে একটা বড় ট্রান্সফরমেশন হয়েছে বলে মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টি।বিশেষ করে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ছাত্রলীগ করতো তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অমান্য করে সরাসরি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই জায়গা থেকে এনসিপি'র নেতার মনে করেন ভোটারদের মধ্যেও একটা ট্রান্সফরমেশন ঘটবে।তারা মনে করেন,দলের জায়গা থেকে আমাদের যে সেন্ট্রাল নেতৃত্ব আছে, সেখানে সাবেক ছাত্রলীগ বলেন, সাবেক ছাত্র শিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ কিংবা ছাত্র ইউনিয়ন এই যে একটা কম্বিনেশন আমাদের এখানে হয়েছে। সে জায়গা থেকে আমাদের এখানে অধিকাংশ সাবেক সংগঠনেরই মূল নেতৃত্ব আছে। ফলশ্রুতীতে এই নেতৃত্বের মূল্যায়ন বা তাদের কাজের মাধ্যমে অন্যান্য ভোটার বা যারা সিদ্ধান্ত এখনো নেননি তারা কাজ কিংবা নেতৃত্বের মাধ্যমে ভোটারেরা প্রভাবিত হবেন।," 

এনসিপি নেতারা আরো বলছেন, 'তারা মনে করেন যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল না কিংবা স্থানীয় অপরাধ সংঘটিত করার ক্ষেত্রে জড়িত ছিল না বাধ্য হয়ে বা কোন একটা কারণে একটা সময়ে আওয়ামী লীগ করেছে সে ভোটাররা হয়তো চাইলে এখন এনসিপি কিংবা, বিএনপি বা জামায়াত তাদের মতো করে তারা চুজ করবে''।

★জামায়াতের তৎপরতা:-

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত ধরে নিয়ে নৌকার ভোটারদের নিজেদের পক্ষে নিতে বিশেষভাবে সোচ্চার দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। জামায়াতের নেতাদের আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিতেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে বা আইনগত কারণে তারা(আওয়ামীলীগ)  নির্বাচনে আসতে পারছে না। কিন্তু তাদের ভোটাররা তো রয়ে গেছে।

জামাত নেতারা বিভিন্ন বক্তব্যে বলছেন, যারা বড় বড় অপরাধে অপরাধী নয় বা দাগি আসামী নয়। যাদের নামে কোনো মামলা নাই। যাদের মানুষ সন্ত্রাসী দাগী আসামি হিসেবে চেনে না। সিম্পল মানুষ একটা দল করে। তার ভোট দেয়ার অধিকার আছে।  তারা তো অপরাধী নন।

যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতো। তার মধ্যে একটা বড় অংশ আছে সাধারণ ভোটার। এখন যেহেতু তারা নেই, তাদেরকে এখন আমরা আওয়ামী লীগ ভাবি না। তারা এখন দেখবে কোন রাজনৈতিক দল ইশতেহারে কী বলছে। কার কাছে তারা নিরাপদ। কাদের চরিত্র সৎ, কারা দুর্নীতিবাজ না, চাঁদাবাজ না। কার কাছে তাদের জানমাল সম্মত ইজ্জত নিরাপদ।

অন্যদিকে,বাংলাদেশে অতীতে অংশগ্রহণমূলক সব জাতীয় নির্বাচনেই দেখা গেছে সারাদেশে নৌকা তথা আওয়ামী লীগের একটা নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে।যার মধ্যে হিন্দু ভোটারদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এবার নির্বাচনে হিন্দু ভোট নিয়েও জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।

কৌশল হিসেবে তারা নিজের নির্বাচনী এলাকায়ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে একাধিক বিশাল সমাবেশ করেছেন।তারা বলছেন"আওয়ামী লীগ নেই তবে, তাদের ভোটাররা আছে। কিন্তু সেই ভোটারদের মতামত কিন্তু বদলে যাবে। আমরা কাউকে জোর করবো না আমরা খুব সিনসিয়ারলি মানুষকে ভালোবেসে আমাদের আদর্শ উদ্দেশ্য লক্ষ্য প্রচার করছি।"

★বিএনপির অবস্থান :-

বাংলাদেশে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাদেরও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য আলোচনায় এসেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও নৌকার ভোট নিজেদের দখলে নেয়ার একটা প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

বিএনপি নেতারা বলছে"কোন ভোটব্যাংক কাদের কী এটা একটা সাইড। আমাদের কথা হচ্ছে আমাদের আগামীর বাংলাদেশটা কেমন হবে? আমার প্রোগ্রামটা কী হবে? এর মধ্যে দেশের জন্য কী আছে, জনগণের জন্য কী আছে? আমাদের ফোকাস সেই জায়গা''।

এছাড়া''কারা কোন দলের কোন গ্রুপের আমরা সেটা আমরা ওইভাবে ভাবছি না। আমাদের প্রোগ্রাম সকলের জন্য সকল বাংলাদেশিদের জন্য। আগামীর বাংলাদেশে তাদের কী ভূমিকা, সরকার কী করবে তাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা কী করবো, আমরা এই প্রোগ্রামগুলো নিচ্ছি। 

যদিও বিএনপির নেতারা বলছেন,আওয়ামী লীগের ভোটারদের আকৃষ্ট করার বিষয়ে দলীয় কোনো অবস্থান নেই।  কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে নেতারা নৌকার ভোট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন। বিএনপির প্রার্থীদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।

★ বিএনপির কর্মসূচিতেও সংখ্যালঘুরা গুরুত্ব :-

সম্প্রতি দলীয় শীর্ষ নেতার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতারা  বলছেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলের সাথে তাদের রাজনীতি। তাদের ভাষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে সকলকে নিয়ে।

কেন্দ্রীয় নেতারা বলছে,আমাদের বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য তো দরকার নেই। আমাদের প্রোগ্রাম যেটা থাকবে সকলকে নিয়ে এবং সকলের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন। সকলের অধিকারের জন্য। সকলের অংশীজন হওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।''''সুতরাং আমরা কোনো পার্টিকুলার ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য রাজনীতি করছি না। আমরা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য। কোনো গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তো কোনো রাজনীতি হইতে পারে না। এটাতো ডিভিশন হবে। আমরা তো বলছি রাজনীতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। 

★আওমীলীগ সমর্থনে ভোটে জয় পরাজয়ের হিসেব:-


শুধু রাজশাহীতেই  নয় সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন এবার নির্বাচনে জয়ে পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা থাকায় নৌকার 'ভোটব্যাংক' দখলে নানা কৌশল ও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীদের।

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন ইতিবাচক বক্তব্য ভোটের রাজনীতির কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় আসন্ন ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের কট্টর ভোটাররা নির্বাচনে কী করবেন তার সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত দলটির দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনাই গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেই অনেকে মনে করছেন।


© বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news