
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন খরবোনা নদীর ধার এলাকায় সশস্ত্র হামলা, গুরুতর জখম ও লুটপাটের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খরবোনা নদীর ধার এলাকার বাসিন্দা মোঃ জিয়ারুল মোল্লা (৪৫) গত ২ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ৩১ মে ২০১৬ রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে কেদুর মোড় বাঁধ এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে আলআমিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে মারধর শুরু করে।
এর কিছুক্ষণ পর রাত প্রায় ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে জিয়ারুল মোল্লার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। সেখানে জিয়ারুলকে না পেয়ে তার ছোট ভাই শানারুল মোল্লা (৩২)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শানারুলের দুই পায়ে ও বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আলমারির দরজা ভেঙে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত নগদ ৯৫ হাজার টাকা, প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার এবং কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
আহত শানারুল মোল্লাকে স্থানীয়দের সহায়তায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তার দুই পায়ে মোট ২৫টি এবং বাম হাতের আঙুলের কাছে ৫টি সেলাই দেন। এছাড়া বুকে আঘাতজনিত শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। অপরদিকে আলআমিনও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঝর্ণা ও মেঘনা নামের দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আরও অনেক ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আলী, আকাশ, রুবেল, তুষার, এনামুল ও সাইনুলসহ নামীয় ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।