Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২৮ জুন ২০২৬
mail.bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

গোদাগাড়ীতে পরিত্যক্ত বিএমডিএর গভীর গর্তে পড়ে মহিষের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণের দাবি

মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী (রাজশাহী): Buffalo dies after falling into deep hole of abandoned BMDA

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে বা গভীর গর্তে পড়ে একটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর এবং প্রায় ৪ ফুট ব্যাসের সংকীর্ণ বোরহোল থেকে মহিষটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। টর্চলাইটের আলোতে মহিষটিকে দেখা গেলেও কোনো নড়াচড়া না থাকায় সেটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহিষটির মালিক বিকাশ খা খা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওঁরাও সম্প্রদায়ের একজন কৃষক। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দুটি মহিষ কিনেছিলেন। মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। মহিষ দিয়ে হালচাষ করেই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। দুটি মহিষের মধ্যে একটি এভাবে মারা যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা বলেন, বিকেলে মহিষটি দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ বোরহোলে পড়ে যায়। খবর পেয়ে তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে এসে মহিষের অবস্থা দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে সেবা দিয়ে সুস্থ করেন। তিনি বলেন,"আমাদের বড় সংসার। বাবা মহিষ দিয়েই হালচাষ করে সংসার চালান। এখন সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে কয়েকজন ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বোরহোল খনন করেন। কিন্তু পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলেও বিপজ্জনক গর্তটি খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। তাদের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একই ধরনের একটি পরিত্যক্ত বিএমডিএ বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের সব পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও শাহানাপাড়া গ্রামের এই বোরহোলটি এখনো খোলা অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বাবু বলেন, কয়েকজন মিলে ওই স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খননের পর পানির স্তরও পাওয়া যায়। তবে জমির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। ভবিষ্যতে নলকূপ স্থাপনের আশা থেকেই বোরহোলটি বন্ধ করা হয়নি। মহিষের মৃত্যুর ঘটনা শুনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"


© বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news