Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news
০১ জুলাই ২০২৬
০৪:২৯ অপরাহ্ন

অন্ধ ঘোড়াকে আশ্রয় দেওয়া কলেজছাত্রের জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক Tarique Rahman

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে অসহায় একটি অন্ধ ঘোড়াকে উদ্ধার করে আশ্রয় দিয়েছিলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহান। তার এই মানবিক উদ্যোগ এবার প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতীয় পর্যায়েও। সোহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীটির হাতে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা সোহানের বাড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ সহায়তা পৌঁছে দেন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চন্দনপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহান।

সোহান বলেন, ঘোড়াটি দুচোখে দেখতে পায় না। তাই বলে তো ওর বেঁচে থাকার অধিকার শেষ হয়ে যায়নি। ওকে কষ্টে পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। যত দিন বেঁচে থাকবে, আমরা সাধ্যমতো এর যত্ন নেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাওয়া এই উপহার ও সহযোগিতায় আমি খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। আমার মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মানবিক উদ্যোগকে তিনি মূল্যায়ন করেছেন, এটি আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়াতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশনা দেন। এরপর হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের তত্ত্বাবধানে তাৎক্ষণিকভাবে সোহানের বিকাশ নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়। সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সোহানের বাড়িতে গিয়ে অন্ধ ঘোড়াটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করি, সোহানের সঙ্গে কথা বলি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আরও নগদ অর্থ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেই। মানবিক এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়া শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও প্রাণীটিকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেননি। ভিডিওটি দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহান। তিনি ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরিবারের সহযোগিতায় এর পরিচর্যা শুরু করেন। পরে স্থানীয় পশুচিকিৎসক ঘোড়াটিকে পরীক্ষা করে জানান, প্রাণীটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এরপরও ঘোড়াটিকে পরিত্যাগ না করে আজীবন লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সোহান ও তার পরিবার।  

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় বিষয়টি খোঁজ নিয়ে এ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

সোহানের বাবা নাঈম হোসেন বলেন, ছেলের ইচ্ছাতেই ঘোড়াটিকে আশ্রয় দিয়েছি। একটি অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।

সোহানের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্বার্থপরতার এই সময়ে একটি অসহায় প্রাণীর প্রতি একজন তরুণের এমন সহমর্মিতা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানিয়ে তারেক রহমানের সহায়তা আরও অনেককে মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। 

© বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news