রাজশাহী নগরীর কেদুর মোড় বৌ বাজার এলাকায় বেলি ভিলা নামের একটি বাড়ি থেকে খালেদা খানম বেলি (৭০) নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ভেতর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত খালেদা খানম বেলি ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তাঁর চার ছেলের মধ্যে তিনজন প্রবাসে এবং একজন ঢাকায় বসবাস করেন। একা থাকার সুযোগে কিংবা পূর্বপরিকল্পিত কোনো দুষ্কৃতকারী চক্র এই ঠাণ্ডা মাথার খুন ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
তবে,কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তা পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে ।
চলতি বছরের (২০২৬ সাল) জানুয়ারি থেকে অক্টোবর—এই ১০ মাসে রাজশাহী মহানগরীসহ গোটা জেলায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাসগুলোতে পারিবারিক কলহ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, চুরি-ছিনতাই এবং সামাজিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে গত জুনে চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু এবং শিশু আদিব হত্যার মতো ক্লু-লেস ঘটনা শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় সেসবের রহস্য উদ্ঘাটিত হলেও খুন ও সহিংসতার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না পুরোপুরি।
বিশেষ করে প্রবীণ ও একা বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অপরাধ প্রবণতা কমাতে পুলিশি টহল জোরদার করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
বেলি ভিলার এই প্রবীণ নারী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ।