Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | mail.bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

রক্তক্ষরণ থামছে না রাজশাহীতে: এক বছরে দেড়শতাধিক কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার

আবুল কালাম আজাদ বিশেষ প্রতিনিধি:- ১২ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সোমবার (১২ অক্টোবর)  নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। র‍্যালি, আলোচনা সভা ও আনুষ্ঠানিকতার কোনো কমতি ছিল না দিবসটি পালনে। তবে এই ধুমধাম ও ঘটা করে পালন করা আয়োজনের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক নির্মম ও ভীতিকর বাস্তবতা।

রাজশাহীতে থামছেই না কন্যাশিশুদের ওপর পাশবিক ও যৌন নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা কিংবা দিনের আলোর ব্যস্ততা—কোথাও নিরাপদ নয় শিশুরা।


​গত এক বছরে (অক্টোবর ২০২৫ থেকে অক্টোবর ২০২৬) শুধু রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন থানা এবং আদালতে জমা হওয়া পরিসংখ্যান বলছে, এই জনপদে প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে কন্যাশিশুরা। ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও অপহরণের মতো পৈশাচিক অপরাধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কোমলমতি শিশুদের শৈশব।


​বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য, পুলিশ রেকর্ড ও আদালত সূত্রে পাওয়া গত ১২ মাসের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দেড়শতাধিক কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।এর মধ্যে,​ রাজশাহী জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই এক বছরে অন্তত ৪৪টি কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় অপরাধের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।


​ নগরীর রাজপাড়া, বোয়ালিয়া, মতিহার এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৮টি শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও গুরুতর শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছে।

​এছাড়া, প্রেমের প্রলোভন, অপহরণ কিংবা মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত এক বছরে ২৬টি নিখোঁজ ও অপহরণের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

বাসাবাড়িতে নিয়োজিত শিশু গৃহকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি ও সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছে আরও অন্তত ১৭ জন কন্যাশিশু।


​অপরাধের নেপথ্য কারণ ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

​বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশু নির্যাতন বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি বহুমুখী সংকট কাজ করছে,নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার জট থাকায় বিচার পেতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। এই দীর্ঘ সময়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়া ও অপরাধীদের জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি।

​ তরুণ ও যুবকদের একটি অংশের মধ্যে সর্বনাশা মাদকের আগ্রাসন এবং সাইবার অপরাধের সহজলভ্যতা নৈতিক অবক্ষয় তরান্বিত।

​ অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাতব্বররা অর্থের বিনিময়ে বা সামাজিক মানসম্মানের দোহাই দিয়ে সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা ।

​

​রাজশাহী জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শিশু নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন।


​ সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, “আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবারে নৈতিক শিক্ষা, স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করলে এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়।”

​একদিকে উদযাপনের রঙ, অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুদের কান্না—রাজশাহীর এই বৈপরীত্য দূর করতে এখন দরকার কথার চেয়ে কাজের প্রতিফলন। সংবেদনশীল এই অপরাধ দমনে এখনই যৌথ ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্ম এক গভীর অন্ধকারের মুখে পড়বে।




সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সোমবার (১২ অক্টোবর) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। প্রতিকী ছবি