Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২৯ অক্টোবর ২০২৬
mail.bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

ক্রমাগত লোকসানে ধুকছে ভারতের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় চলা বাংলাদেশ রেলওয়ে

আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি :- Bangladesh Railway fares double those of India

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যখন রেলখাত হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে, তখন বাংলাদেশ রেলওয়েতে উল্টো চিত্র—বছরের পর বছর ধরে গুনতে হচ্ছে হাজার কোটি টাকার লোকসান। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে ট্রেন ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি, আর ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না (ছাদ পর্যন্ত যাত্রী ওঠে), সেখানে রেল কেন লাভের মুখ দেখছে না? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এক অন্তহীন লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার চিত্র।


ভারত ও বাংলাদেশের রেলের বৈপরীত্য তথ্য বলছে, গত বছর ভারতীয় রেলওয়ে এককভাবে প্রায় ৪,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছে। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে লোকসান দেখিয়েছে ১,৮৮৯ কোটি টাকা!

ভাড়ার তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার ট্রেন ভাড়া প্রায় ৯৭ পয়সা, যেখানে ভারতে সর্বোচ্চ মাত্র ৪২ পয়সা—অর্থাৎ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ভাড়া অর্ধেকেরও বেশি! অতিরিক্ত যাত্রী ও বেশি ভাড়া থাকা সত্ত্বেও রেলের এই পতন কেন—তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মেগা প্রকল্প থেকে ভুয়া বিল: লুটপাটের রাজত্ব:-

রেলখাতের লোকসানের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে পদে পদে দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগে হরিলুট: ৩৪ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের নকশা বারবার সংশোধন করে ব্যয় ঠেকানো হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকায়।

অস্বাভাবিক কেনাকাটা: মাত্র ১৯ হাজার টাকার 'লিফটিং জ্যাকেট'-এর দাম ৩ লাখ টাকা দেখানোর মতো নজিরও এই খাতে রয়েছে।

ভুয়া বিলের মহোৎসব: সম্প্রতি রেলওয়ে, সিটি কর্পোরেশন ও ব্যাংকের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে ভুয়া বিলে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় কোটি টাকা।


টিকেট উধাও, কালোবাজারি রমরমা:-

যাত্রীদের প্রধান ভোগান্তি হলো টিকেট না পাওয়া। ট্রেন ছাড়ার ১০ দিন আগে অনলাইনে টিকেট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা 'উধাও' হয়ে যায়। অথচ স্টেশনের পেছনেই কালোবাজারিদের কাছে ১০০ টাকার টিকেট বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়! সাধারণ মানুষ টিকেট না পেলেও কালোবাজারিরা এত টিকেট কোথায় পায়—তার সদুত্তর নেই।পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশনের হাজার হাজার দোকানপাটের ভাড়া কোথায় যায়, কিংবা দায়িত্বে থাকা আনসার ও কর্মচারীরা ঘুষ নিয়ে বিনা টিকেটে যাত্রী পারাপার করছেন—এমন চিত্র রেলের রাজস্ব ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।


১৯৮৯ সালের পর থেকে রেলের বড় কোনো লাভের ইতিহাস প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর থাকা সত্ত্বেও পণ্য পরিবহনে (কার্গো ট্রেন) রেলকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায়ে যদি কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন বাড়ানো হতো, তবে রেলের আয় বহুগুণ বেড়ে যেত।


জনসাধারণ ও সচেতন মহলের দাবি, পুরোনো এই জিম্মি সিস্টেম পরিবর্তন না হলে জাতি যুগের পর যুগ ঠকতেই থাকবে। টিকেট ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশন করা, কেনাকাটায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ও কালোবাজারিদের মূলোৎপাটন করা গেলেই কেবল বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।

© বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news