২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিন সাঁওতাল শ্যামল হেম্ব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি। তাঁদের হত্যাকাণ্ডের ১০ বছরেও এখনো বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত হয়নি। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের বিচার, জমি ফেরত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার ৬ নভেম্বর রাজশাহী নগরের গণকপাড়ায় অনিল মার্ডি হলরুমে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে আদিবাসী হত্যা দিবস পালন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, কোষাধ্যক্ষ সুধীর তির্কী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুপচান লাকড়া, রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেম্ব্রম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি অনুকুল বর্মন, লালমোহন মিন্জ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে পুলিশের গুলিতে শ্যামল হেম্ব্রম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি নিহত হন। এ ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয়নি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের ভূমির অধিকারও নিশ্চিত করা যায়নি।আদিবাসীরা তাঁদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন।
নিজেদের ভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের জমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে নিহত তিন সাঁওতালের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা নিহত তিন সাঁওতালের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের বিচার, ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আদিবাসীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।