Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০৮ নভেম্বর ২০২৬
mail.bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

কৃত্রিম সংকট নাকি বরাদ্দের ঘাটতিঃ ​রাজশাহীতে রাতভর লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী:- Artificial crisis or allocation shortfall

রবি মৌসুমের শুরুতেই শীতকালীন শাকসবজি ও প্রধান ফসলের আবাদ নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা। তবে জমি প্রস্তুত করলেও চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশায় পড়েছেন তারা। 

সরকারিভাবে বারবার দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ডিলার পয়েন্টগুলোতে রাতভর অপেক্ষা কিংবা দীর্ঘ ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও এক-দুই বস্তার বেশি সার মিলছে না। অন্যদিকে, বাকিতে সার কেনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও খুচরা বাজারে সারের যোগান না থাকায় উৎপাদন খরচ চালানো নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা।

​সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার ডিলার পয়েন্টগুলোতে গিয়ে দেখা যায় কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ও চরম ভোগান্তির চিত্র। পবা উপজেলার মদনহাটি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম  রোববার( ৮ নভেম্বর)  সকাল সাড়ে ৬টা থেকে মোহনপুরের কেশরহাট মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের সামনে লাইনে দাঁড়ান। টানা ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুপুর ১২টায় তিনি পান মাত্র এক বস্তা ডিএপি ও এক বস্তা এমওপি সার।

​ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, "১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, ফুলকপি ও রসুনের আবাদ করব। আমার কমপক্ষে ৫ বস্তা করে সার দরকার। ডিলার যে সার দিল, তা দিয়ে কীভাবে এত জমি চাষ করব?

​একই ভোগান্তির কথা জানান গোদাগাড়ী  সদরের আম ও ভুট্টা চাষি শামীম হোসেন। মাত্র এক বস্তা সার সংগ্রহ করতে তাকে সারারাত ডিলারের দোকানের সামনে কাটাতে হয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ীর কৃষক নাজমুল হোসেন জানান, আগে খুচরা দোকান থেকে ফসল কাটার শর্তে বাকিতে সার পাওয়া গেলেও এখন চড়া মূল্যে নগদে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।


​মাঠপর্যায়ে এই সংকট মূলত সরকারি বরাদ্দ ও প্রকৃত চাহিদার বড় ধরণের অসঙ্গতির কারণে তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন  সারের ডিলাররা।

​মোহনপুর  উপজেলার বিসিআইসি ডিলার আবুল হোসেন জানান, অক্টোবর মাসের শেষদিকে  তার অনুকূলে ডিএপি ২০০ বস্তা, এমওপি ১৮২ বস্তা ও টিএসপি ৯০ বস্তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অথচ তার এলাকায় মাসিক চাহিদা ডিএপির আড়াই হাজার বস্তা, এমওপির ২ হাজার ৪০০ বস্তা এবং টিএসপির ৬০০ বস্তা।


​একই সুর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারের বিএডিসি ডিলার ওসমান আলীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, নভেম্ববরে মাত্র ৬০ বস্তা ডিএপি পেয়েছি, অথচ আমার এলাকায় কৃষকের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। বাধ্য হয়ে একেকজন কৃষককে মাত্র তিন কেজিও সার দিতে হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা যে চাহিদা নির্ধারণ করেন, তা মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।"


​ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রভাব পড়েছে স্থানীয় খুচরা বাজারগুলোতেও। কেশরহাটের খুচরা সার ব্যবসায়ী মো. শরীফ জানান, গত ৭ মাস ধরে ডিলাররা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন, ফলে প্রান্তিক চাষিরা প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে সার কেনার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।


​সার সংকট ও মাঠপর্যায়ের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে জানতে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তিনি ছুটিতে আছেন এবং অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে উপ-পরিচালক মোছা. সাবিনা বেগমের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।



© বিজয় বাংলা নিউজ
mail.bijoybangla.news