রাষ্ট্রহীন সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় ৩ দিন ধরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনের অবস্থান, বিএসএফ বলছে ফিরিয়ে নেবে না

The stay of 10 people, including men, women, and children, for 3 days
কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ০৮ জুন ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন সারা বাংলা
কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ০৮ জুন ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
রাষ্ট্রহীন সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় ৩ দিন ধরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনের অবস্থান, বিএসএফ বলছে ফিরিয়ে নেবে না
রাষ্ট্রহীন সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় ৩ দিন ধরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনের অবস্থান, বিএসএফ বলছে ফিরিয়ে নেবে না

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে গত শুক্রবার ভোরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। আবার বিএসএফও তাদের ফিরিয়েও নেয়নি। ফলে ৩ দিন ধরে তারা রাষ্ট্রহীন সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দফায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও মেলেনি এর কোনো সমাধান। শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার সারাদিন প্রখর রোদে থাকার পর সারারাত ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও সন্তানদের নিয়ে  দিন রাত পার করতে হয়েছে তাদের। তবু সীমান্তে আটকে থাকা এসব নারী-পুরুষ ও শিশুর ভাগ্যে কোনও সুরাহা হয়নি। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারা এবং ভারতেও ফিরতে না পারায় তারা সীমান্তবর্তী জিরো লাইনে ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।  

রবিবার (৭ জুন) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শূন্যরেখার ফসলি জমির আইলে কেউ বসে আছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে। জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি। আইলের এ পাশে রাইফেল হাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অপর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সদস্যরা। মাঝে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে ৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ শিশু।  


এ ঘটনায় গত শনিবার (৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে শুক্রবার (৫জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিজিবির বড়বাড়ি বিওপি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু দুই দফার পতাকা বৈঠকেও এর কোনো সমাধান আসেনি।

শূন্যরেখায় অবস্থান করা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে দেখতে আসে বাংলাদেশ সীমান্তের লোকজন। তবে রোদবৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে কাথা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনের কষ্ট দেখে দুই দেশের সরকারের কাছে এ ঘটনার দ্রুত সমাধান দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, ৩ দিন ধরে যে পরিমাণ বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়েছে তাতে আমাদের ঘরে থাকাই কষ্টকর। সেখানে তারা বাচ্চা ও নারীদের নিয়ে এভাবে খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। এলাকাবাসী তাদের নিয়ে খুব চিন্তায় থাকলেও বিএসএফের যেন কোনও চিন্তাই নেই। এটা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। তারা বলেন, কোনো পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। সেই সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ্য করেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তা প্রতিহত করে। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি। ফলে তিন দিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন তারা।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিজিবি কোনও ধরনের পুশইন মেনে নেবে না। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে পুশইন চেষ্টার শিকার হওয়া লোকজনকে ফিরিয়ে নিতে বলেছি। কিন্তু ওই বৈঠকে বিএসএফ অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করলেও এর কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।