সততা ও নীতির প্রশ্নে অনমনীয় রামেবি ভিসি: কায়েমী স্বার্থান্বেষীদের ‘মব জাস্টিস’ ও সত্যের জয়
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (রামেবি) সততা, নীতি-নৈতিকতা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের মূল্য চোকাতে গিয়ে অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে।
অবৈধ সুবিধা হাসিলে ব্যর্থ একশ্রেণির দুষ্কৃতকারী, সুবিধাবাদী ঠিকাদার ও স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম ‘মব’ তৈরি করে তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনে। এমনকি বলপ্রয়োগ করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হয়।
তবে সিন্ডিকেট সদস্যদের সরেজমিনে পরিদর্শন ও স্বয়ং ভূমিমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতিতে সেই অপপ্রচার নস্যাৎ হয়ে গেছে এবং প্রমাণিত হয়েছে—উপাচার্য ষড়যন্ত্রের শিকার হলেও নীতির পথে অনড় ছিলেন।
সততার বলয় ভেঙে অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থতা:-
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রামেবির প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উপায়ে পরিচালনার শক্ত সিদ্ধান্ত নেন উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ প্রভাব বিস্তার, শত কোটি টাকার কাজের ভাগ-বাটোয়ারা এবং কাজ না করে বিল উত্তোলনের অন্যায্য দাবিতে তিনি কোনোভাবেই সাড়া দেননি।
যেসব সুবিধাবাদী ও বহিরাগত গোষ্ঠী অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, উপাচার্যের কড়াকড়ির কারণে তারা কোনো অবৈধ সুযোগ পায়নি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ ছড়িয়ে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার কৌশল নেয়।
সুপরিকল্পিত ‘মব’ সৃষ্টি ও বলপ্রয়োগের চেষ্টা:-
উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো বৈধ আইনি প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়ে গত ০৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বহিরাগত ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর একটি দল দপ্তরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কোনো কাগজপত্র না পড়তে দিয়েই ভয়ভীতি ও লাঞ্ছনার ভয় দেখিয়ে একখণ্ড কাগজে সই নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যাকে পরবর্তীতে তথাকথিত 'পদত্যাগ' বলে প্রচারের অপচেষ্টা করা হয়।
কিন্তু এই ‘মব কালচার’-এর মুখেও ভয়ে পিছপা হননি ভিসি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই, তবে কোনো অন্যায় বা বেআইনি দাবির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।
সত্য উন্মোচনে সিন্ডিকেটের পরিদর্শন ও ভূমিমন্ত্রীর কঠোর বার্তা:-
পরবর্তী দিনগুলোতে সিন্ডিকেট মেম্বার ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও নথিপত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁদের নিরপেক্ষ পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত গাছ কাটা, সীমানা প্রাচীর বা কাজের টেন্ডার সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। সরকারের নিয়মকানুন শতভাগ মেনেই উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল।
পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রী সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উপাচার্যকে সসম্মানে তাঁর কার্যালয়ে বসান এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ভূমি মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য:-
"যারা এই দুর্ভাগ্যজনক আচরণ করেছে, তারা দুষ্কৃতকারী। এদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই; এরা সমাজের শত্রু। রাজশাহীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। উপাচার্য মহোদয় আপনি সাহস ধরে রাখুন, কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।"
ভূমি মন্ত্রী এবং প্রশাসনের এই জোরালো পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি জাতীয়ভাবে প্রমাণিত হয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখা একজন সৎ শিক্ষাবিদকে হেনস্তা করতেই এই সাজানো অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।
সত্যের জয় এবং ঘুরে দাঁড়ানো রামেবি:-
বর্তমানে রাজপাড়া থানায় উক্ত হামলায় জড়িত ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সচেতন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ মনে করেন, প্রফেসর ড. জাওয়াদুল হকের সততা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব রামেবিকে দুর্নীতিমুক্ত ও একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে।