অতিরিক্ত চিনি কি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি বাড়ায়

Does excess sugar cause long-term damage to the body
অনলাইন ডেস্ক ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০৪ অপরাহ্ন লাইফস্টাইল
অনলাইন ডেস্ক ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০৪ অপরাহ্ন
অতিরিক্ত চিনি কি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি বাড়ায়
সংগৃহীত ছবি

ছুটির দিন, পারিবারিক মিলনমেলা বা দৈনন্দিন খাবারের তালিকা- সব ক্ষেত্রেই মিষ্টি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। তবে নিয়মিত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করলে তা শুধু দাঁতের সমস্যা এবং ওজন বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর পরিণতি আরও গুরুতর। দীর্ঘস্থায়ীভাবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা এবং বিপাকীয় ব্যাধি দেখা দিতে পারে, যা কিছু ক্যান্সারের সঙ্গে এর পরোক্ষ সংযোগের আশঙ্কা তৈরি করে।


চিনির সঙ্গে ক্যান্সারের সরাসরি সংযোগের কোনো প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত অনেক খাবার ও পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে তা তেমন কোনো পুষ্টিগুণ ছাড়াই আপনার মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। যখন গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ শরীরের শক্তির প্রয়োজনের চেয়ে ধারাবাহিকভাবে বেশি হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি হিসাবে জমা হয়, তখন স্থূলতা দেখা দিতে পারে।


স্থূলতা কীভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?


বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন অন্তত ১৩টি ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত, যার মধ্যে রয়েছে মেনোপজের পরে স্তন ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল, অগ্ন্যাশয়, যকৃত, কিডনি এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘস্থায়ী, মৃদু প্রদাহ, যা শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকার সাথে সম্পর্কিত। স্থূলতা ইনসুলিন, ইনসুলিন-সদৃশ বৃদ্ধি ফ্যাক্টর এবং কিছু যৌন হরমোনের মাত্রাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই জৈবিক পরিবর্তনগুলোর ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে যা অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।


এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, স্থূলতার অর্থ এই নয় যে একজন ব্যক্তির স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যান্সার হবে। বরং এটি এমন কয়েকটি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে একটি যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।


চিনি কি ক্যান্সার কোষের জন্য শক্তির উৎস?


একটি বহুল প্রচলিত ধারণা আছে যে, খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিলে ক্যান্সার কোষগুলো কার্যকরভাবে অনাহারে থাকবে। যদিও এটা সত্যি যে ক্যান্সার কোষ সাধারণ কোষের চেয়ে বেশি গ্লুকোজ গ্রহণ করে, তবে এটা সত্যি নয় যে খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিলে টিউমার ছোট হয়ে আসবে। এটা মনে রাখা উচিত যে, খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা বাদ দেওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার সঠিক পদ্ধতি নয়।


খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে আরও ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ


খাদ্যতালিকা থেকে কোনো কিছুই পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু সবকিছু পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা অনুসারে, একজন ব্যক্তির মোট ক্যালোরি গ্রহণের ১০% এর বেশি মুক্ত চিনি গ্রহণ করা উচিত নয়, যেখানে ৫% আরও বেশি উপকারী বলে মনে করা হয়।


চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে ফল খাওয়া, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাবার খাওয়া সহায়ক হতে পারে। শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক শারীরিক ওজনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


চিনি, স্থূলতা এবং ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্কটিই প্রমাণ করে যে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি মনোযোগ দেওয়া কেন জরুরি। যদিও মাঝে মাঝে একটু আধটু অনিয়ম করায় কোনো সমস্যা নেই, তবে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির কারণ তৈরি করতে পারে।